মাছ চাষ

নতুন উদ্যোগতাদের জন্য ধারাবাহিক তথ্য প্রামান্য চিত্র – লোকসান দিয়ে আর কোন ব্যবসা নয়

About shopno dairy

shopno dairy
Print Print
Pin It

মাছ চাষ:

রাতে ডিনার করছিলাম, হঠা মনে হলো মাহের কে মাছের খাবার বানানোর ম্যানু সেই কবে দিয়েছিলাম, ছেলেটা বলল পরামর্শ মোতাবেক খাবার বানিয়ে খাওয়াচ্ছে, কিন্তু মাছের গ্রোথ বা বৃদ্ধি কতটুকু হলো কিছুই আর জানা হলো না। খাবার খেয়ে উঠেই মাহের কে টেক্সট দিলাম কি অবস্থা মাছের জানার জন্য। কিছুক্ষন পরেই মাহের রিপ্লাই দিল, ভাই আমি আজ একটু পরেই আপনাকে জানাতাম। আমিও ভাবছিলাম আপনার কথা, আজই মাছের ওজন দিয়েছি। আমি মাছের গ্রোথ এর ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহের বলে উঠলো, ভাই সুপার গ্রোথ হয়েছে। আমি ভাবতে পারিনি এত ভাল গ্রোথ হবে ২৫ দিনে, আপনার পরামর্শে ভাগ্যিস নিজের বানানো খাবার খাইয়েছিলাম। খরচ অনেক কম লেগেছে। না হলেতো কেনা ফিড খাওয়ানোরই পরিকল্পনা ছিল। মনে মনে ভাবলাম এই তথ্যগুলো আমার নতুন উদ্যোজ্ঞতা ভাইদের জানানো দরকার। আমাদের মধ্যে অনেক বন্ধুই আছে যারা বাজারের উচ্চ মুল্যের প্যাকেটজাত খাবার খাওয়াচ্ছে ৪৮-৫৫ কেজি দরে। অথচ আমরা একটু কস্ট করলেই ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে অনেক ভাল মানের মাছের খাবার নিজেরাই বানাতে পারি।যাই হোক ,এরপর মাহের বলল,ভাই দিনাজপুরে আমার চাচা এই ব্যবসা করে লোকসান দেয়। আমার বাবার জমিতে চাচা মাছ চাষ করতেন। লোকসান দেবার পর বাবা ভাবছিলেন জমি অন্য কাউকে লিজ দিয়ে দেবেন। আমি বাবাকে বললাম, আমি লীজ নিবো তোমার থেকে। আমাকে জানতে হবে কেন লোকসান হল এই ব্যবসাতে। সত্যি কথা বলতে কি, আমি প্রথমে পাংগাস আর তেলাপিয়ার চাষ করার কথা ভাবছিলাম বাজার থেকে প্যাকেটজাত কেনা ফীড খাইয়ে, কিন্তু আপনার সাথে কথা বলার পর পুরো প্ল্যান পরিবর্তন করে বাংলা মাছের চাষ করছি। আল্লাহর রহমতে খুব ভাল গ্রোথ হয়েছে যা সত্যি আমার ধারনার বাইরে ছিল। ২৫ দিনে ২০০ গ্রামের রুই মাছ ৫০০ গ্রাম, ৩০০ গ্রামের সিলভার কার্প ৭০০ গ্রাম, ৫০০ গ্রামের কাতল ৯০০ গ্রাম হয়েছে। আর আমার ছোট পুকুরে ৮ কেজি রেনু পোনা ছেড়েছিলাম যার ওজন ৪০ কেজির মত হয়েছে। মোট ১২ মনের মত মাছ ছেড়েছি। বেশ ভাল লাভ হবে আশা করছি।মাহের ছোটকাল থেকেই বিদেশে লেখাপড়া করে ২০১০ এ বাংলাদেশে চলে আসে। সে এখন ব্যংকিং এন্ডফিন্যান্স এর উপর লেখাপড়া করছে। মাহেরর এই কথাগুলো শেয়ার করার একটাই উদ্দ্যেশ্য আমার তা হল, লোকসান দিয়ে বাজারের উচ্চ মুল্যের প্যাকেটজাত ফীড খাইয়ে ব্যবসা হবেনা। কি করে লাভবান হতে হবে এর বাস্তব কিছু চিত্র ইনশাআল্লাহ্‌ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ধীরে ধীরে। বাজারের উচ্চ মুল্যের কেনা ফীড খাইয়ে ব্যবসা ফীড কোম্পানীর হবে, আর সব লোকসান আসবে আপনার ঘাড়ে। মাহেরের মত নিজেদের সচেতন হতে হবে, নিজের বুদ্ধি খাটায়ে বুঝতে হবে কোনটা ঠিক-বেঠিক।আমি তেলাপিয়াকে ভাসমান খাবার না খাইয়ে ভাল ব্যবসা করা যায় কিনা এটা বোঝার জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে  ১৫,০০০ মনোসেক্স তেলাপিয়ার একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। সবাই বলে তেলাপিয়াকে ডুবা খাবার না দিলে হবেনা, এটা বোঝার জন্য আমি নিজের বানানো ডুবা খাবার খাইয়ে মাশা আল্লাহ, ১০ দিনে ৮০ টায় ১ কেজির তেলাপিয়াকে ৪০ টায় ১ কেজিতে আনতে পেরেছি।আর এই কিছুদিন আগে আবার ওজন নিলাম, ১৪ দিন আগে ১ কেজিতে ছিল ৪০ টা, আজ ১৪ দিন পর ওজন দিয়ে পেলাম ১ কেজিতে ১৮ টা। সাথে অন্যান্য বাংলা মাছ তো আছেই। দেখা যাক ডুবা খাবার খাইয়ে তেলাপিয়া হয় কিনা। আর ৩ মাসের মধ্যেই আপনাদের  জানাতে পারবো কেমন হল। ইনশাআল্লাহ্‌ , লোকসান দিয়ে আমরা কেউ আর ব্যবসা করবোনা, কেউ আমাদের উলটা পালটা বুদ্ধি দিয়েও আর বোকা বানাতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ্‌।

আমি যে ডুবা খাবারের ম্যানু দিয়েছি তার ফলাফল পুকুরের সব মাছের ক্ষেত্রে কেমন তার একটা হিসাব দিলাম -

তেলাপিয়া ১৪ দিন পর ১৮ টা থেকে ১২ টা ১ কেজি এসেছে। মিরর কার্প ২৮ দিন আগে ছেড়েছিলাম ৫ টাতে ১ কেজি, আজ ২৮ দিন পর মিরর কার্প পেলাম প্রতিটা ১ কেজি, পুটি ছেড়েছিলাম ২০ টাতে ১ কেজি, আজ ২৮ দিন পর পুটি পেলাম ৫-৬ টাতে ১ কেজি। ২৮ দিন আগে রুই ছেড়েছিলাম ৮-১০ তে ১ কেজি, আজ ২৮ দিন পর রুই পেলাম ৩ টাতে ১ কেজি। ইলিশভাটা ৪০০ তে ১ কেজি ছিল, আজ ২৮ দিন পরে এটা আসলো ৮৫ টাতে ১ কেজি। এখন ফিড কোম্পানীদের জানাতে চাই আপনারা হিসেব করে দেখেন গ্রোথ কেমন হল আমার মাছের। তেলাপিয়ার গ্রোথ কিছুটা কম হয়েছে যা আমি আশা করেছিলাম কারন ওই পুকুরে অন্যান্য মাছের ঘনত্ব বেশী ছিলা, আজ কিছু বিক্রি করে কমিয়ে এনেছি। সামনের বার ইনশাল্লাহ আরো ভালো গ্রোথ আসবে তেলাপিয়ার।বি:দ্র: মাহের ঢাকা থাকে বলে মাছের ফটো ম্যানেজ করা গেলোনা, তবে ওনি প্রেজেক্টে গেলেই কিছু চিত্র আমাদের তুলে পাঠাবেন।
***পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরো ৩ মাস সময় লাগবে, এরপর আপনাদের জানাতে পারবো যে ডুবা খাবার দিয়ে তেলাপিয়া করা যায় কিনা। আমি এসব করি বোঝার জন্য, জানার জন্য। গতানুগতিক চিন্তা ধারার বাইরে চিন্তা করতে আমি পছন্দ করি।

 নিজের বানানো ডুবা খাবার এর একটা হিসাব এখানে দেয়া হলো  :-

*১১৫০ কেজি খাবারের জন্য তালিকা দেয়া হল। (খাবারের উপাদানের গুনগত মান অবশ্যই দেখে নিতে হবে)। অটো রাইস মিলের কুড়া ৫০০ কেজি, গমের আটা ১৫০ কেজি, ভূট্টা ১৫০ কেজি, শুটকী ২০০ কেজি, সরিষার খৈল ১৫০ কেজি, ভিটামিন ৩৫০ টাকার। এই খাদ্যে কেজি প্রতি দাম পড়ছে ২৫-২৬ টাকা। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে পিলেট আকারে খাবার বানানোর জন্য মেশিনের সহায়তা নিতে হবে। অনেক এলাকায় ফিড মিল আছে যারা এই পিলেট খাবার বানিয়ে দেবে। আবার যারা বড় খামারী তারা ছোট আকারে কম দামের একটা পিলেট তৈরী করার মেশিন কিনেও নিতে পারেন।পিলেট খাবার বানানোর ছোট আকারের মেশিন ১০-১২ হাজার টাকা হতে পারে। এটা ২ বছর আগে জানতাম।
( লেখাটি/তথ্য গুলো   সপ্ন ডেইরী এন্ড ফিশারিজ এর অনুমতি ক্রমে প্রকাশ করা হলো ,মেঠোপথ এর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ  এবং আমাদের সাথেই থাকার আহ্বান জানাচ্ছি )

 

12919828_1519119781730115_5599962773258885540_n

12630 Total Views 12 Views Today

2 comments

  1. স্যার, আপনি পুরো প্রক্রিয়া টি শেষ করে আমাদের কে জানাবেন। প্লিজ!!! অপেক্ষায় থাকলাম। এটা অত্যান্ত জরুরী আমাদের জন্য। এতে করে অনেক বিষয়ে সংচয় দূর হবে আপনার কল্যাণে। আশা করি আপনি ধৈর্যসহকারে কাজটি সম্প্রাদন করতে পারবেন। আল্লাহ আপনাকে সহযোগিতা করুক!!!

  2. You are doing a great job. Our good wishes are always with you.
    We appreciate your hard work and the time efforts combined for the visual output.
    Keep it up !! Allah bless you.

    May be twitter account is not working for METHOPOTH or else i am making mistakes. Could you please check it up ? Thanks a lot for your sincere co-operation.

    Regards,
    Culture@Green.

Leave a Reply to Yousuf Nobi Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>