বনসাই এর যত্ন-আত্তি

About co-admin

co-admin
Print Print
Pin It

যে কোনো শিল্পের সব’চে  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তার সঠিক পরিচর্যা ,তা সেটা আর্টই হোক,আর বনসাই’ই হোক না কেন,সঠিক ভাবে যত্ন না নিলে কোনো কিছুই ঠিক থাকবে না,নষ্ট হবেই।আর শখের বনসাইটি যদি কেনার পর নষ্টই হয়ে যায় তার’চে বড় কষ্ট মনে হয় আর নেই এক জন বনসাই প্রেমীর জন্যে, কিন্তু এই দুঃখ জনক পরিণতির গল্প আমাদের প্রায়ই শুনতে হয়,আমার নিজের এমন অভিজ্ঞতা কম নয়,শুধু সঠিক সময় সঠিক ভাবে যত্ন নিতে না জানার জন্যে আমার অনেক বনসাই নষ্ট হয়েছে,অনেক খুঁজে একটা লেখা পেয়েছিলাম যার লেখক এর নাম এই মুহুর্তে মনে পরছেনা (লেখাটি আমি কাগজে লিখে রেখেছিলাম,তখন বুঝতে পারি নাই যে এভাবে ওনার নামটি দরকার হবে ,যদিও রাখাটা অবশ্যই উচিত ছিল) তাই আজ সবার সাথে শেয়ার করছি,আশা করি এত দিন যারা আমার কাছে এই বিষয়ে জানতে চেয়ে নক করতেন কিন্তু অনলাইন এ না থাকার জন্যে আমার উত্তর দিতে দেরী হত তাদের এটা বিশেষ উপকারে আসবে (ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেই মানুষটিকে যিনি এই লেখাটির আসল মালিক,যত দূর মনে পরছে  তিনি বাংলাদেশ বনসাই বা রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সদস্য)

জানুয়ারী

এ সময় বনসাইকে পূর্ণ সুর্যের আলোতে রাখতে হবে।যেহেতু শীতকালে সুর্যের তেজ কম,সেহেতু বনসাইতে পানি দেবার বিষয়ে যত্নবান  হবেন। এই মৌসুমে বনসাই একটু কম পানি পছন্দ করে, টবের মাটি ভেজা থাকলে পানি দেবেন না। কেবল চিরহরিৎ প্রজাতির গাছগুলোতে তরল সার দিন।যে সব গাছের পাতা ঝরে গেছে,তাতে কোনরকম সার না দেওয়াই ভাল।

ফ্রেব্রুয়ারি

এ সময় বনসাইকে সূর্যালোকে রাখুন। পানি দেবার ব্যাপারে সতর্ক হোন।এই মাসের শেষের দিকে অনেক গাছে কচি পাতা বেরোনোর সময়। গাছে শোষক পোকা কিংবা ছত্রাকের আক্রমন থাকলে কচি  ডগাগুলি বিকশিত হওয়ার  আগেই নষ্ট হয়ে যাবে।কাজেই ফ্রেব্রুয়ারির ২য় সপ্তাহেই একবার কীট   ও ছত্রাক নাশক ওষুধ স্প্রে করুণ। কোনো টবের মাটি বদলে দেবার দরকার হলে এই মাসের  ২য় পক্ষে করুন।যেসব গাছে নতুন অংকুরগুলি  মুখ খুলেছে,যেসব  গাছে নিয়ম আনুযায়ী সার দিতে শুরু করুন।

মার্চ

এ মাসে রোদের তেজ বাড়ে। পানি দেবার পরিমান বাড়াতে থাকুন। মিনিয়েচার বনসাইগুলি সম্পর্কে সতর্ক হোন। বনসাইকে নতুন সার মাটিতে বসাবার কাজ এই মাসে পুরোদমে চলবে। ডাল পালা ছাড়তে শুরু করেছে এমন গাছগুলিকে হালকাভাবে ছাঁটুন। আর একবার কীট ও ছত্রাক নাশক প্রয়োগ  করুণ।গাছকে নিয়মিত ভাবে ধুয়ে দেবার কাজ এ মাস থেকেই শুরু করুন।

এপ্রিল

এপ্রিল মাসে রোদ্রের তেজ প্রখর হয়। বনসাইগুলি  যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তার জন্য  ব্যবস্থা নিন। সকালে ও বিকালে গাছে পানি দিন। নিয়মিত বিকালের দিকে গাছগুলিকে ধুয়ে দিন।মিনিয়েচার বনসাই গুলোকে ভেজা বালির উপর রাখুন। সম্ভব হলে একবেলা রোদ্দুর পায় এমন জায়গায় সরিয়ে নিন। প্রচন্ড গ্রীষ্মে টবের মাটিকে ঠান্ডা রাখতে মস, খড়ের কুচি অথবা কচুরিপানা কুচি টবের উপর চাপান দিন। গাছের ডাল পালার বৃদ্ধি অনুসারে হাল্কা ছাঁটাছাঁটির  কাজ চালিয়ে যান।সার প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন।

মে ও জুন

বেশি রোদ সইতে পারে না তেমন বনসাই গুলোকে প্রথমে অর্ধেক সময় রোদ পাবে এমন জায়গায় রাখুন। নিয়মিত সকালে ও বিকেলের দিকে গাছ গুলোকে পানি দিন। এ মাসে মাঝে মাঝে বিকেলের দিকে কালবৈশাখির ঝড় হয়, তাই গাছের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে দিকে লক্ষ রাখুন। বোগেনভিলিয়ার ফুল শেষ হয়ে গিয়ে থাকলে ডালগুলি ভাল করে ছেঁটে দিন।প্রতি টবের মাটির উপর ৫-৬টি কেক-সার ফেলে দিন।প্রচন্ড গ্রীষ্মে টবের মাটিকে ঠান্ডা রাখতে চাপান দিন।প্রয়োজনবোধে শুধু কচি ডগা খুঁটে দেয়া ছাড়া এ মাসে গাছকে বেশি ছাঁটাছাঁটি না করাই ভালো।স্প্রে ,সার ও তরল সারের প্রয়োগ চলতে থাকবে রুটিন অনুযায়ী।

জুলাই

এসময় নিয়মিত বৃষ্টি হবে আর তাই ডালপালা দ্রুত বাড়বে,এ সময় প্রয়োজন মত পানি দিন আর সার প্রয়োগ বন্ধ করুন। বাড়তি ডাল গুলো কেটে ফেলুন আর যে ডাল গুলো রাখবেন সেগুলির ডগা ছেঁটে দিন।গাছের পাতা গুলো ছেঁটে দিন তবে পাতার বোটা গুলো যেনো গাছের সাথে থাকে (চিত্র)

 

জুলাই মাসে বনসাই এর পরিচর্যা বনসাই এর পরিচর্যা (ছবি দুটি সংগ্রহ করা) । এই মাসেই শুরু হবে কাটিং থেকে চারা তৈরীর কাজ।যদি প্রাকিতিক ভাবে জন্মানো কোনো চারা বা গাছ সংগ্রহ করতে চান তবে গাছের চার পাশ খুঁড়ে পাতা পঁচা সার যুক্ত বালি বা কাঠের গুঁড়া ভরে দিন,টবের উপর গ্রীষ্মে  দেয়া চাপান গুলো সাবধানে তুলে নিন এবং গাছটিকে টবে তুলুন।গুটি বা দাবা কলম করতে চাইলে এই মাসের ২য় সপ্তাহে করুন।

আগস্ট

এই মাসে গাছে পানি দেবার ব্যাপারে সতর্ক হোন। এ সময় তরল সার দেয়া উচিত নয়। বড় পাতা ওয়ালা গাছের পাতা প্রথম পর্যায়ে ছেঁটে দেবার পর যদি নতুন পাতা গুলি পরিণত হয়ে থাকে তাহলে ২য় পর্যায়ে পুনরায় সমস্ত পাতা ছেঁটে দিন এবং ডাল গুলিও ছেঁটে দিন।এই মৌসুমে বিভিন্ন কারণে টবের মাটিতে পোকামাকড় ও শিকড়ে ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব হয়।তাই প্রত্যেক টবে যথাযথ মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগ করুণ এবং ছত্রাক নাশক ঔষধ পানিতে গুলে টবের মাটিতে প্রয়োগ করুণ। চারাগাছকে বড় টবে তুলুন।

সেপ্টেম্বর

এখন শেষ বর্ষা ,বৃষ্টি অনিয়মত। গাছে পানি দেবার ব্যাপারে সতর্ক হোন। বর্ষার রেশ যদি ভালো মত থাকে তো তৃতীয় পর্যায়ে (সেপ্টেম্বরের প্রথম পক্ষে)ডগা ,বাড়তি ডাল পালা ও পাতা ছেঁটে ফেলুন। সেপ্টেম্বরের ২য় পক্ষ থেকে টবের মাটি বদলে দেবার কাজটি করুন। যে সব টবে নতুন  সার মাটি  দেয়া  হয়নি, সে সব টবে  তরল ও স্প্রে  -সার প্রয়োগ করুন।

অক্টোবর ও নভেম্বর

টবের মাটি বদলে দেবার কাজ প্রথম পক্ষের মধ্যে শেষ করুন । কেবল ভঙ্গিমা রক্ষার স্বার্থে যেটুকু ছাঁটাছাঁটি প্রয়োজন করুন। স্প্রে সার-কেক ও পুরোদমে প্রয়োগ করতে থাকুন। গাছে কীট ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করুন। ১০ দিন পর ২য় বার স্প্রে করুন। শীতে যে সব গাছে ফুল ফুটবে, সে সব গাছে নাইট্রোজেন প্রধান সারের প্রয়োগ কমিয়ে দিন। ফসফেট ও পটাশের প্রয়োগ বাড়ান। রুটিন অনুসারে তিন রকমের সার প্রয়োগ করুন।

ডিসেম্বর

যে সকল গাছের পাতা মরে যায় সে সমস্ত গাছগুলিতে সমস্ত রকম সারের প্রয়োগ বন্ধ করুন। চিরহরিৎ ও যেসব গাছে শীতকালে পাতা ঝরে না, সেই সব গাছে মাসে দু’বার তরল সার দিন। ফুটন্ত গাছেও সার প্রয়োগ বন্ধ রাখুন।

 

2222 Total Views 1 Views Today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>