বন ঝুঁটিয়াল গিরগিটি

দুর্লভ প্রজাতির বন ঝুঁটিয়াল গিরগিটি

About Admin

Admin
আমি ইশতিয়াক এই WebSite এর Admin Officer আমি মূলত একজন IT Expert, তবে একই সাথে Photography এবং গাছপালা লাগানোর প্রতিও আমার সমান আগ্রহ আর সেই আগ্রহ থেকেই এবং গ্রাম বাংলার কৃষক এবং শহরের মানুষকে এই বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার জন্যেই মূলত আমার এই WebSite টির পরিকল্পনা করা। আশাকরি আপনাদের সবার অনুপ্রেরনা এবং সমর্থন আমার সাথে থাকবে। ধন্যবাদ সবাইকে
Print Print
Pin It

বন ঝুঁটিয়াল গিরগিটি আমাদের দেশের এক দুর্লভ গিরগিটি, এ প্রজাতির গিরগিটি বনবাসী রক্তচোষা নামেও বেশ পরিচিত। ইংরেজিতে Forest Crested Lizard বা Emma Grays Forest Lizard নামে পরিচিত। আমাদের বাগানের অতি পরিচিত গিরগিটি, যা সাধারণত রক্তচোষা বা কাকলাস (Garden Lizard) এর সমগোত্রীয়। Agamidae পরিবারের এই সদস্যের বৈজ্ঞানিক নাম Calotes emma।

Garden Lizard

এরা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে শরীরের রঙ পরিবর্তন করে লালচে হয়ে ওঠে। সে কারণে সাধারণ লোকেরা ভাবে, সে রক্ত চুষে নিচ্ছে। এ কারণেই তাদের রক্তচোষা নাম দেয়া হয়েছে। কিন্তু নিরীহ এই প্রাণীর রক্ত চুষে নেওয়ার কোনো ক্ষমতাই নেই। অথচ অকারণে ভয় পেয়ে লোকেরা এদের মেরে ফেলে। তাই এদেরকে রক্তচোষা না বলে গিরগিটি বলাই শ্রেয়।

একটি প্রাপ্তবয়স্ক বন ঝুঁটিয়াল গিরগিটি ৪১-৪২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। চোখের ওপরের এক জোড়া কাঁটা বাদে এদের চেহারা প্রায় বাগানের গিরগিটির মতোই দেখা যায়। এদের দেহের ওপরটা বাদামি, তাতে গাঢ় বাদামি দাগ বা ফোঁটা থাকে। এদের দেহের মধ্যভাগে এই দাগ বেশ উজ্জ্বল আর নিচটা সাদাটে। চোখের ভেতর থেকে গাঢ় একটি রেখা বেরিয়ে এসেছে। উত্তেজিত হলে এদের মাথা ও গলা কালো রংয়ের হয়ে যায়। ঘাড় ও পিঠে স্পষ্ট চূড়া বা ঝুঁটি দেখা যায়। এছাড়া ঘাড়ের সামনে কালো ভাঁজ থাকে। মাথায় অসম আকৃতির ও ফুসকুড়িযুক্ত আঁইশ থাকে। মাথার উভয় পাশে তিনটি গুচ্ছে কাঁটা বা ‘স্পাইন’ থাকে।

প্রজনন ঋতুতে পুরুষ গিরগিটির দেহের সামনের অংশের ত্বক কালো রং ধারণ করে। স্ত্রী বন ঝুঁটিয়াল গিরগিটি ১২টি ডিম্বাকৃতির ডিম দেয়। এই বন ঝুঁটিয়াল গিরগিটি দিবাচর ও বৃক্ষচারী। এরা একাকী বা জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়। মূলত পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ খেয়ে জীবনযাপন করে এরা। চির সবুজ পাহাড়ি বনাঞ্চল ও বনাঞ্চলের চারপাশের এলাকায় বাস করতে পছন্দ করে । সাধারণত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনে এদের দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও দুর্লভ প্রজাতির এই গিরগিটিগুলো ভারত, চীন এবং মিয়ানমারসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই এদের দেখা মেলে।

যেহেতু প্রজননসংক্রান্ত তথ্য খুব একটা পাওয়া যায় না, তাই এ দিকটাতে গবেষণা হওয়া দারকার।বন ঝুঁটিয়াল গিরগিটি আমাদের পরিবেশের জন্য বিশেষ  উপকারী। কেননা, এরা ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ খেয়ে আমাদের বেশ উপকার করে। সুতরাং এদের রক্ষা করার জন্য সকলকেই সচেতন হতে হবে।

1650 Total Views 2 Views Today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>