earth quack

ভূমিকম্প

About Ishtiaque

Ishtiaque
আমি ইশতিয়াক এই WebSite এর Admin Officer আমি মূলত একজন IT Expert, তবে একই সাথে Photography এবং গাছপালা লাগানোর প্রতিও আমার সমান আগ্রহ আর সেই আগ্রহ থেকেই এবং গ্রাম বাংলার কৃষক এবং শহরের মানুষকে এই বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার জন্যেই মূলত আমার এই WebSite টির পরিকল্পনা করা। আশাকরি আপনাদের সবার অনুপ্রেরনা এবং সমর্থন আমার সাথে থাকবে। ধন্যবাদ সবাইকে
Print Print
Pin It

শুরুতেই নেপাল,ভারত আর বাংলাদেশ এ হয়ে যাওয়া ভূমিকম্পে  নিহত এবং আহত মানুষ গুলোর জন্যে মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ প্রার্থনা  করছি,তিনি যেন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করেন।জান মাল এর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি এবং সাহস দেন।

ভূমিকম্প

মানুষ এখনো প্রাকিতিক দুর্যোগে কতটা  অসহায় তার একটি নিদর্শন হচ্ছে ভূমিকম্প।অন্যান্য দুর্যোগের হয়তো সতর্কতা মূলক লক্ষন পাওয়া যায় কিন্তু ভূমিকম্পের কোনও আগাম সতর্কতার লক্ষন পাবার উপায় এখনোও বিজ্ঞানীরা সঠিক ভাবে বের করতে পারেন নি,আর তাই এতে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি আর ভয়ংকর।তাই এ থেকে বাঁচা নয় জরুরি হচ্ছে এর জন্যে সব সময় আগাম সতর্কতা নিয়ে রাখা,যাতে ভূমিকম্প হলে তাতে বিপদ এর আশংকা কম থাকে।আর এজন্যে জনগন এবং সরকার উভয়কেই প্রস্তুতি নেয়া উচিৎ,সরকার যেমন জনগন কে জানাবে যে কি করলে বিপদ কম হতে পারে ঠিক তেমনি জনগন ও সেই অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিবে,বলা হয়ে থাকে ঢাকাতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেই  বেশির ভাগ স্থাপনা ধ্বসে যাবে।অর্থাৎ আমাদের যে বাড়ি ঘর তা সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ করে করা হয় নি,এতে দায় কিন্তু আমাদের জনগন এবং এর মান নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরই ।যদি সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ করে এগুলো তৈরী করা হয় তাহলেই কিন্তু বিপদের মাত্রা অনেক  কমে যেতে পারে,এছাড়া আমাদের মতো ঘন জনবসতি এলাকায় চাইলেও ফাঁকা জায়গা রাখা সম্ভব নয়,কিন্তু যতো টুকু সম্ভব তাও  কি রাখা হচ্ছে? এর পেছনে দায়ী হচ্ছে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাবস্থা।যদি সব উন্নয়ন ঢাকা এবং চট্রগ্রাম ভিত্তিক না হয়ে সমতার ভিত্তিতে করা হত তাহলেই কিন্তু শহর গুলো অনেক সুন্দর আর বাসোপযোগী থাকতো আর আমাদের জান মাল এর নিরাপত্তা বেড়ে যেতো।এখন এগুলো নিয়ম এর ভেতর আনাটাও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার,এর সাথে যুক্ত হবে এই স্থাপনার মালিকদের জীবিকার মতো জটিল বিষয়,তাই চাইলেই যে এগুলো ভেঙ্গে ফেলা যাবে তাও সম্ভব নয়,তাই উচিৎ নতুন স্থাপনা সঠিক ভাবে তৈরী হচ্ছে  কিনা তা নিশ্চিত করা,দেশ যেহেতু সবার দায়িত্বও  কিন্তু সবার-যদি আমাদের ভেতর এই মানসিকতা তৈরীই না হয় যে আমি যদি ভুল করি তাহলে ভুক্তভোগী হব আমরা সবাই তাহলে কিন্তু হবে না,অনিয়ম করে বানানো বাড়ি বা স্থাপনাতে হয়ত আমরা থাকি না বা আমাদের কার্য ক্ষেত্র নয় কিন্তু অন্যরাও  তো আমাদেরই লোক,তাদের জান-মাল এর নিরাপত্তা দেয়া আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব,সবাইকে সবার জন্যে কাজ করার মন- মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

ভূমিকম্প থেকে নিরাপদ থাকতে  হলে কি করা উচিৎ

প্রথমেই  বলেছি যে ভূমিকম্প এড়ানোর কোনও উপায় নেই,এটা হবেই,তাই দরকার আগেই সচেতনতা বাড়ানো,এবং আক্রান্ত হলে কি করতে হবে সেই বিষয়ে নিজেকে এবং আশে পাশের সবাইকে দিক নির্দেশনা দিয়ে রাখা।

ভূমিকম্পের আগে করণীয়

  • বাড়ির ভেতরে এবং বাইরে নিরাপদ স্থানগুলো আগেই  চিহ্নিত করা জরুরি, যাতে ভূমিকম্পের সময়  কোথায় আশ্রয় নেবেন তা নিয়ে দিধায় না ভুগেন। বাসায় যারা ছোট তাদের এ বিষয়ে ভালো করে বুঝিয়ে দিন।
  • ভঙ্গুর জিনিস সব সময় বন্ধ শেলফে রাখা উচিত।ভারী মালপত্র উপরে রাখবেন না, শেলফের নিচের দিকে রাখুন।  ঝাঁকুনিতে যাতে এগুলো গায়ের ওপর না পড়ে।
  •  গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক লাইন  নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
  •  মাঝে মাঝে ভূমিকম্প ও জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার মহড়া দিন যাতে সবাই আয়ত্ত করতে পারে।
  • নিজের কর্মক্ষেত্রে, বাসায় ও প্রতিবেশীদের এ বিষয়ে সচেতন করুন, সাথে আপনার কমিউনিটিকেও।
  •  শুকনো খাবার,পানি  ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার কিছু সরঞ্জাম হাতের কাছে রেখে দিন।
  •  অন্ধকারে দেখার জন্য টর্চ  হাতের কাছে রাখুন,সব সময় মোবাইল এ চার্জ দিয়ে রাখুন যাতে আক্রান্ত হলে প্রিয়জনদের জানাতে পারেন ।
  • আক্রান্ত হলে যাতে উদ্ধার কর্মীদের আপনার অবস্থান জানাতে পারেন সে জন্যে সাথে বাঁশি বা আওয়াজ করা যায় এমন কিছু্ রাখুন।
  •  শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুলোতে ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালানো।

ভূমিকম্পের সময় ঘরে থাকলে করণীয়

  • আশে পাশে মজবুত কোনো আসবাবের নিচে ঢুকে পড়ুন এবং তা শক্ত করে ধরে রাখুন যাতে তা সরে না যায়।
  • আসবাবপত্র না পেলে ঘরের ভেতরের দিকের দেয়ালের নিচে বসে আশ্রয় নিতে পারেন। বাইরের দিকের দেয়াল বিপজ্জনক।
  • জানালার কাঁচ , আয়না, আলমারি, দেয়ালে ঝুলানো বস্তু থেকে দূরে থাকুন। এগুলো ভেঙে মাথায় পড়তে পারে, তাই সতর্ক থাকুন। আর সব সময় মাথা  যে কোনও ভাবে আঘাত পাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।
  • বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থান করলে ঘরের ভেতরে থাকাই ভালো।  কারণ নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর আগেই ভূমিকম্পের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।এছাড়া নামার সময়ও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
  • ভূকম্পন থেমে গেলে বের হয়ে আসুন।
  •  নিচে নামতে চাইলে কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করবেন না।  সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামুন।  নামার সময় মোবাইল ফোন আর ঘরের চাবিটা সম্ভব হলে হাতেই রাখুন।
  •  বিছানায় শোওয়া অবস্থায় থাকলে বেশি দূরে না গিয়ে মজবুত বিছানা হলে তার নিচেই আশ্রয় নিন।

ভূমিকম্প

ঘরের বাইরে থাকলে করণীয়

  • খোলা জায়গার নিচে আশ্রয় নিন,উচুঁ বিল্ডিং এর নিচে আশ্রয় নিলে আহত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
  • লাইটপোস্ট, বিল্ডিং, গাছ অথবা বৈদ্যুতিক তার ও পোলের নিচে কোনো অবস্থাতেই দাঁড়াবেন না।
  • রাস্তায় ছোটাছুটি করবেন না।মাথার ওপর কাঁচের  টুকরো, ল্যাম্পপোস্ট অথবা বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চলমান গাড়িতে থাকলে করণীয়

  • তৎক্ষণাৎ গাড়ি থামিয়ে খোলা জায়গায় পার্ক করে গাড়ির ভেতরেই আশ্রয় নিন।
  • কখনই ব্রিজ, ফ্লাইওভারে থামবেন না।কারণ তা ভেঙ্গে পড়লে আঘাত পাবার  সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে।
  • বহুতল ভবন কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনা থেকে দূরে গাড়ি থামান।
  • ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করুন।

ভূমিকম্পের পরে করণীয়

  • ভূমিকম্প শেষ হলেও কম্পনের জন্য প্রস্তুত থাকুন।প্রায়ই পরপর কয়েকবার কম্পন হয়।মনে রাখবেন যে কোনও বড় ভূমিকম্পের পর পর বেশ কিছু আফটার শক/কম্পন হয়। এই আফটার শকের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই।আফটার শক এক ঘণ্টার মধ্যেই হয়ে যায়,কখনো এক মাসের মধ্যেও হতে পারে।
  • যথাসম্ভব শান্ত থাকুন।কম্পন থেমে গেলেও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন,তারপর বের হন। ওপর থেকে ঝুলন্ত জিনিসপত্র কিছুক্ষণ পরেও পড়তে পারে।
  • নিজে আহত কিনা পরীক্ষা করুন,অপরকে সাহায্য করুন।বাড়িঘরের ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করুন।নিরাপদ না হলে সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যান।
  • গ্যাসের সামান্যতম গন্ধ পেলে জানালা খুলে বের হয়ে যান এবং দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করুন।
  • কোথাও বৈদ্যুতিক স্পার্ক চোখে পড়লে মেইন সুইচ বা ফিউজ বন্ধ করে দিন।ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিং থেকে সাবধান থাকুন।  অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়লে করণীয়

  • আগুন জ্বালাবেন না।বাড়িটিতে গ্যাসের লাইন লিক থাকলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
  •  ধুলাবালির মধ্যে পড়লে হাত অথবা রুমাল দিয়ে নাক মুখ ঢেকে নিন।
  •  ধীরে নড়াচড়া করুন এবং উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকুন।
  • উদ্ধার কাজের সময় নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে পাইপ অথবা দেয়ালে আস্তে আস্তে টোকা দিয়ে শব্দ করুন। চিৎকার না করাটাই ভালো, এতে প্রচুর পরিমাণে ধূলা নিঃশ্বাসের সাথে ঢুকে যেতে পারে।

যে কোনও বিপদে আতংকিত না হয়ে সাহসের সাথে মোকাবেলা করুন,তাহলেই দেখবেন উদ্ধার পাবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে ।এই ধরনের পরিস্থিতি তে একে অন্য কে সহযোগিতা করুন এবং যে কোনও রকম গুজব এ কান দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

helping-hand-4501-2800x600

**Some photos & information are collected from various sources 

 

 

1845 Total Views 1 Views Today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>