গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা

গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা

About Admin

Admin
আমি ইশতিয়াক এই WebSite এর Admin Officer আমি মূলত একজন IT Expert, তবে একই সাথে Photography এবং গাছপালা লাগানোর প্রতিও আমার সমান আগ্রহ আর সেই আগ্রহ থেকেই এবং গ্রাম বাংলার কৃষক এবং শহরের মানুষকে এই বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার জন্যেই মূলত আমার এই WebSite টির পরিকল্পনা করা। আশাকরি আপনাদের সবার অনুপ্রেরনা এবং সমর্থন আমার সাথে থাকবে। ধন্যবাদ সবাইকে
Print Print
Pin It

গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা , সঠিক প্রজনন , সুষম খাদ্য, রোগদমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে খামারিদের জানা প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশে প্রতিবছর দুধের চাহিদা ১২.৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন, উৎপাদন হচ্ছে প্রতিবছর ২.২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ঘাটতি প্রতিবছর ১০.২৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন। চাহিদার আলোকে আমাদের দেশে ছোট-বড় প্রায় ৪৭,৭১০টি ডেইরি খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে শংকর জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার স্থাপন একটি লাভজনক ব্যবসা।  

গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা করতে  নিম্নবর্নিত বিষয় সমুহের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়

খামারের স্থান নির্বাচন

আমরা পরিবার ভিত্তিক ক্ষুদ্র খামার স্থাপনের জন্য আমাদের বাড়ির অ-ব্যবহারিত স্থান বেছে নিতে পারি। এ স্থানটি সাধারনত বাড়ীর পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে হলে ভাল হয়। সর্বমোট ১০ টি গরুর জন্য ৩০০ বর্গ ফুট জায়গার প্রয়োজন। গরুর ঘর থেকে ২০/২৫ ফুট দূরে একটি ছোট ডোবা থাকবে যাতে সেখানে গরুর মল-মূত্র ফেলা যায়। এ ছাড়া মল মুত্র থেকে জৈব সার ও বায়ো গ্যাস উৎপাদনের জন্য বায়ো গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে লাভজনক ভাবে খামারের বর্জ ব্যবস্থাপনা করা যায়।

ভাল জাতের গাভীর বৈশিষ্ট্য

মাথা হালকা ও ছোট আকার, কপাল প্রশস্ত, উজ্জ্বল চোখ, খাদ্যের প্রতি আগ্রহ। দৈহিক বৈশিষ্ট্য  দেহের সামনের দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুসংগঠিত, দৈহিক আকার আকর্ষণীয়, শরীরের গঠন ঢিলা। পাজর  পাজরের হাড় স্পষ্ট, হাড়ের গঠন সামঞ্জস্যপুর্ণ। চামড়া  পাতলা,  অহেতুক চর্বি  থাকবে না,  রঙ উজ্জ্বল, লোম মসৃণ ও চকচকে হবে। ওলান বড় সুগঠিত ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাটগুলো একই আকারের হবে। চারবাট সমান দূরত্বে ও সমান্তরাল  হবে।  দুগ্ধশিরা মোটা ও স্পষ্ট, তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তিত  থাকবে।

গাভীর খামার ব্যবস্থাপনা

খামার ব্যবস্থাপনা এক প্রকার কৌশল যার মাধ্যমে খামারের সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সমন্বয় ঘটানো যায়। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার সুফল হল-
১. সম্পদের মিতব্যয়িতা
২. স্বল্প সময়ে ফল লাভ
৩. স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন
৪. শক্তি ও শ্রমের অপচয় রোধ
৫. উৎপাদনে গুণগতমান ও উৎকর্ষতা লাভ।

সাধারণ ব্যবস্থাপনা

গাভী তার গুণগতমান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে। কিন্তু গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান যতই ভাল হোক এর ব্যবস্থাপনা সমন্ধে বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, বিজ্ঞান সম্মত বাসস্থান, সুষম খাদ্য সরবরাহ, সঠিক প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইত্যাদি উন্নত গাভী পালনের মৌলিক বিষয়।

বাসস্থান

পারিবারিক পর্যায়ে বা খামার পর্যায়ে গাভী পালন করতে হলে গাভীর জন্য ভাল বাসস্থান প্রয়োজন। গাভীকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যেমন- ঝড়, বৃষ্টি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম এবং অন্যান্য নৈসর্গিক দৈব দুর্বিপাক, পোকামাকড়, চোর, বন্য-জীবজন্তু হতে রক্ষা করার জন্য যথোপযুক্ত বাসস্থান বা গোয়ালঘর প্রয়োজন। আমাদের আবহাওয়ার আলোকে ঘরে প্রচুর আলো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরটি উত্তর-দক্ষিণমুখী হওয়া বাঞ্চনীয়। কোন অবস্থাতেই যেন ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা যেন না থাকে। এতে ঘরের মেঝেটি ইট বিছানো থাকলে ভাল হয়। ঘরের দুর্গন্ধ ও মশামাছি দমনের জন্য মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক দ্বারা ধোয়া প্রয়োজন।

গবাদিপশুর বাসস্থান দুই ধরণের হতে পারে : ১. উন্মুক্ত বা উদাম ঘর ২. বাঁধা ও প্রচলিত ঘর।

বাঁধা ঘরের বৈশিষ্ট্য

এই পদ্ধতিতে গরুর গলায় দড়ি বা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে পালন করা যায়। গাভীর খাদ্য, পানি গ্রহণ এবং দুধ দোহন একই স্থানে করা যায়।

সুবিধা

বাঁধা থাকে বিধায় গাভীর দুধ দোহন সহজ হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পশু নিরাপদ থাকে, কৃত্রিম প্রজননের জন্য বেশ সুবিধাজনক, নির্ধারিত অল্প জায়গায় পশু পালন করা যায়।

অসুবিধা

এই পদ্ধতিতে ঘর তৈরি খরচ বেশি, পশুর সহজে ঘোরাফেরার ব্যবস্থা থাকে না, এতে পশুর ব্যয়াম না হওয়াতে বিভিন্ন ধরনের রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে, একই জায়গায় দিনরাত্রি বাঁধা থাকে বলে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে।

বাঁধা ঘরের নকশা

এই পদ্ধতির গো-শালায় পশু সব সময় বাঁধা অবস্থায় থাকে। এজন্য গো-শালা যাতে সহজে পরিস্কার করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। প্রচলিত গো-শালা দুই ধরনের হয়-

একসারি বিশিষ্ট গো-শালা

অল্প সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য একটি লম্বা সারিতে বেঁধে পালনের জন্য এই গো-শালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পশুকে পৃথক রাখার জন্য জিআইপাইপ দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয়, পার্টিশনের পাইপ লম্বায় ৯০ সে.মি. এবং উচ্চতায় ৪৫ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একটি গরুর দাঁড়াবার স্থান ১৬৫ সে.মি., পাশের জায়গা ১০৫ সে.মি., খাবার পাত্র ৭৫ সে.মি. এবং নালা ৩০ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একই মাপে পশুর সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে গো-শালা তৈরি করা হয়, গো-শালা হবে একচালা বিশিষ্ট ঘর, ঘরের ছাদ প্রায় ৩০০ সে.মি. উঁচুতে করতে হয়।

দুই সারি বিশিষ্ট গো-শালা

অল্প জায়গায় অধিক পশুপালনের জন্য এ ধরণের গো-শালা তৈরি করা হয়, এ ধরনের গো-শালায় পশুকে দুভাবে রাখা যায়, মুখোমুখি পদ্ধতি ও বাহির মুখ পদ্ধতি। মুখোমুখি পদ্ধতিতে দুই সারি পশু সামনাসামনি থাকে। দুইসারি খাবারের পাত্রের মাঝখানে ১২০ সে.মি. চওড়া রাসত্দা থাকে- যা পাত্রে খাবার দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, একটি গরুর জন্য দাঁড়ানোর জায়গা ৫.৫ ফুট, পাশের জায়গা ৩.৫ ফুট।

সুবিধা

একই সাথে দুইসারি পশুকে সহজে খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়, দুধ দোহনের জন্য অধিকতর আলো পাওয়া যায়, পশু নিজ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, পরিচর্যাকারী সহজে চলাফেরা করতে পারে।

গাভীর খাদ্য

কাঁচা ঘাস গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য। এ ছাড়া, সাধারনত কৃষিজাত পণ্যের উৎপন্ন  যেমন, চালের কুড়া, গমের ভুষি, খেসারি ভুষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, মুশুর, মুগ, ছোলা, ও মটরের ভুষি, তিলের খৈল, তিষির খৈল, ধানের খড়, ভুট্টার খড় ইত্যাদি গো খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করা হয়।
উপরে বর্নিত গবাদি পশুর খাদ্যগুলিকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি, যথা –

(১) দানাদার খাদ্য

চালের কুড়া, গমের ভুষি, খেসারি ভুষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, মুশুর, মুগ, ছোলা ও মটরের ভুষি, তিলের খৈল, তিষির খৈল ইত্যাদি দানাদার খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। এ সকল খাদ্য উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে সুষম দানাদার খাদ্য তৈরী করা হয়। সুষম দানাদার খাদ্য খামারীগণ নিজে খামারে তৈরি করতে পারেন। তা ছাড়া খাদ্য কারখানায় উৎপাদিত সুষম দানাদার খাদ্য বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়। এ গুলি প্রয়োজনীয় মাত্রায় গবাদি পশুকে খাওয়ানো হয়।

(২) আঁশ জাতীয় খাদ্য

কাঁচা ঘাস, ধানের খড়, ভুট্টার খড় ইত্যাদি গবাদি পশুর আঁশ জাতীয় খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করা হয়। আঁশ জাতীয় খাদ্য দুই ভাগে বিভক্ত যেমনঃ  (ক) কাঁচা ঘাস (খ) শুকনো খড় ইত্যাদি।আমাদের দেশে গো- চারন ভূমি নেই বললেই চলে। তাই কাঁচা ঘাসের ভীষন অভাব। সাধারনতঃ ফসলের জমিতে যে সব আগাছা জন্মায় ঐগুলিই ঘাস হিসাবে গবাদি পশুকে খাওয়ানো হয়। কিন্তু, এ ঘাস খামারে গাভী পালনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই, খামারের গাভির জন্য ফসলের জমিতে ঘাস চাষ করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে বর্তমানে উন্নত জাতের ঘাসের বীজ পাওয়া যায়। যেমন- নেপিয়ার, পারা, হাইব্রীড সরগম (জাম্বো), জার্মান গ্রাস, আলফা আলাফা, লুসার্ন ইত্যাদি। নেপিয়ার, জাম্বু ইত্যাদি ঘাস ১ বিঘা জমিতে বছরে প্রায় ১৮ মেঃ টন পর্যন্ত উৎপাদিত হয় । ১ বিঘা জমির উৎপাদিত ঘাস দিয়ে ৩টি গাভীকে সারা বছর কাঁচা ঘাস খাওয়ানো যায়। ধানের খড় আমাদের দেশে সারা বছর জুড়েই পাওয়া যায়। গবাদি পশুর খাদ্যের চাহিদা মিটাতে ধানের খড় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ভুট্টার চাষ আমাদের দেশে ব্যপকভাবে হয়ে থাকে। শুকনো ভুট্টার গাছ ও পাতা গবাদি পশুর জন্য একটি উপাদেয় আশ জাতীয় খাদ্য ।

দুগ্ধবতী গাভীর সুষম দানাদার খাদ্য তৈরির তালিকা

১ . গমের ভুষি- ৩৫ ৩৫%২. চালের কুড়া -৩০ ৩০%৩. খেসারি /ডাল /ছোলা / মটর ভুষি -১২ ১২%৪. তিলের খৈল/ সয়াবিন মিল -২০ ২০%৫. চিটা গুড়- ২ ২%৬. লবন- ০.৭৫০ %৭. ডি সি পি -২ ২%৮. ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স -০.২৫০ % মোটঃ ১০০

উপরে উল্লেখিত তালিকা অনুযায়ী তৈরী খাদ্য গাভীর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ১.৫ কেজি এবং প্রতি কেজি দুধের জন্য ০.৫ হারে খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া দুগ্ধবতী গাভীকে প্রতিদিন ১-২ কেজি চাউলের খুদ আথবা ভুট্টা ভাঙ্গা সিদ্ধ করে খাওয়াতে হবে।

কাঁচা ঘাস ও খড় খাওয়ানো

একটি শংকর জাতের দুগ্ধবতী গাভী যার দৈনিক দুধ উৎপাদন ১০ লিটার তাকে ৩০ কেজি কাঁচা ঘাস ও ৪ কেজি শুকনো খড় খাওয়াতে হবে। দুধ উৎপাদন বেশী হলে আনুপাতিক হারে ঘাস ও খড়ের পরিমান বাড়াতে হবে। শুষ্ক, বকনা, গর্ভবতী গাভী ও ষাঁড়কে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ কেজি ঘাস ও ২ থেকে ৪ কেজি খড় খাওয়াতে হবে ।

বাছুর লালন পালন

দুগ্ধ খামারের বড় সম্পদ তার বাছুর। তাই খামারে বাছুরের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। বাছুর জন্মাবার পর থেকেই এর যথাযথ  যত্ন নিতে হবে। জন্মের সাথে সাথে এর নাক মুখ পরিষ্কার করে শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে এবং গাভীকে দিয়ে গা চাটাতে হবে। নিয়মিত শাল দুধ পরিমান মত দিনে ৫/৬ বার খাওয়াতে হবে। শাল দুধ শেষ হলে নিম্ন বর্নিত ভাবে প্রতিদিন পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে ।

১ম মাসঃ দৈনিক ২ থেকে ৩ লিটার
২য় মাসঃ দৈনিক ৩ থেকে ৪ লিটার
৩য় মাসঃ দৈনিক ৩ থেকে ৪ লিটার
৪র্থ মাসঃ দৈনিক ৪ লিটার

উল্লেখিতভাবে বাছুরকে দুধ খাওয়ালে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধি তরান্বিত হবে এবং ১৫-১৬ মাস বয়সে বকনা বাছুর গর্ভ ধারনের ক্ষমতা অর্জন করবে।

পরিচর্যা

গাভীর সঠিক পরিচর্যা না করলে উন্নত জাতের গাভী পালন করেও গাভীকে সুস্থ সবল উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব হবে না। ফলে গাভী হতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ দুধ, মাংস পাওয়া যাবে না এবং গাভী পালন অলাভজনক হবে।

দুধ দোহন

গাভীর দুধ দৈনিক ভোরে একবার এবং বিকালে একবার নির্দিষ্ট সময়ে দোহন করতে হবে। দুধ দোহনের পূর্বে গাভীর উলান ও দোহনকারীর হাত পরিস্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

প্রজনন

গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠ  পরিকল্পিত প্রজনন ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। যে ষাড়ের মা, দাদী, নানী যত বেশি পরিমাণ দুধ দেয় তার বাচ্চার দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা ততই বেশি হয়। তাই যখন গাভী গরম হবে তখন গুণগতমানসম্পন্ন ষাড়ের বীজ দ্বারা গাভীকে প্রজনন করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

কৃত্রিম প্রজনন ও জাত উন্নয়ন

খামার স্থাপন কালে আমরা যে সব গাভী ক্রয় করি তা সাধারনত উৎপাদনশীলতার দিক থেকে নিম্ন মানের হয়ে থাকে। অতএব, খামার গড়ার জন্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের উপর নজর দিতে হবে যাতে খামারে উৎপাদিত বাছুরের জাতগত মান উচ্চতর হয়। অধিক উৎপাদনশীল জাতের বাছুর পেতে কৃত্রিম প্রজননের সহায়তা নিয়ে আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারি। কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে অধিক উৎপাদনশীল জাতের মান সম্মত বীজ ব্যবহার করে গাভীকে প্রজনন করালে ভাল জাতের বকনা/ষাঁঢ় বাছুর পাওয়া যাবে। বকনা বাছুর বড় হয়ে মা হলে অধিক দুধ পাওয়া যাবে। এভাবে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ভাল জাতের গাভী দিয়ে একটি আদর্শ খামার গড়তে পারি।

গোবর/ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

গোবর গবাদি পশু থেকে পাওয়া একটি অর্থকরী সম্পদ। গোবর থেকে আমরা বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করতে পারি যা থেকে জ্বালানী ও ফসলি জমির উৎকৃষ্ট সারের চাহিদা পুরন করা সম্ভব। এ ছাড়া, মাছের জলজ খাদ্য উৎপাদনে পুকুরে গোবর ব্যবহার করা হয় ।

পশু রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

গবাদি পশুর রোগ বালাই দমন ও চিকিৎসা খামার ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য অংগ। আমাদের দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন সংক্রামক ও ছোয়াঁচে রোগে গবাদি পশু মারা যায়। ফলে, খামারিগণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। গবাদি পশুর রোগ বালাই দমনের জন্য সকল গবাদি পশুকে প্রতি ৪ মাস পর পর নিয়মিত কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। উকুন ও আঠালি দমন করতা হবে। সংক্রামক ও ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধের জন্য সকল বয়সের গবাদি পশুকে টীকা প্রদান করতে হবে।

দক্ষ জনবল

খামার সফল ভাবে পরিচালনার জন্য খামারে কাজ করতে আগ্রহী দক্ষ, উদ্যোগী , কর্মঠ,উদ্যমী , সৎ ও ত্যাগী জনবলের বিকল্প নেই। খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সময়জ্ঞান, নিয়মানুবর্তিতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হতে হবে। তাই খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারি নিয়োগের সময় উল্লেখিত সৎ গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে হবে।

খামারের  পরিবেশ বজায় রাখা

খামারের অভ্যন্তরে ও চারিপাশে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরী। স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিদিন নিয়মিত গাভীর শেড পরিষ্কার করতে হবে। শেডের গোবর যথাস্থানে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলতে হবে। ড্রেনের মাধ্যমে শেডের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করতে হবে। মশা, মাছি ও অন্যান্য কীট পতঙ্গের হাত থেকে গবাদি পশু রক্ষা করতে মশা মাছি ধ্বংশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মশা থেকে রক্ষার জন্য মশারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। খামারের চারিপাশের আগাছা, জংলা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে ।

জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

খামারকে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য খামারের জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। খামারে মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রন এবং অন্যান্য প্রাণী যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল ও ইঁদুর ইত্যাদির প্রবেশ সম্পুর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। কারণ উল্লেখিত জীবজন্তু রোগজীবাণুর বাহক হিসাবে কাজ করে এবং ছোয়াচে রোগ বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।

খামারের রেকর্ড সংরক্ষণ

খামারের লাভক্ষতি নিরূপণ আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিয়য়ে মূল্যায়ন করা দরকার। খামারের উৎপাদিত পণ্যের হিসাব, ক্রয়, বিক্রয়, জন্ম, মৃত্যু  এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের জন্য সঠিক তথ্য রক্ষাকল্পে রেকর্ড সংরক্ষণ করা অত্যাবশ্যকীয়।

উপসংহার

আমাদের দেশে মাণ সম্মত বিশুদ্ধ গরুর দুধের চাহিদা যে অনেক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা অনেক মূল্যের বিনিময়ে খাটি দুধ পেতে সদা সচেষ্ট থাকি। তাই, ভাল জাতের কয়েকটি (৪-৫ টি) গাভী লালন পালন করে সারা বছর  দুধ উৎপাদন করে  নিজের চাহিদা পুরন ও অতিরিক্ত দুধ বিক্রি করে আমরা আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারি।

সূত্র : অনলাইন

..

12100 Total Views 3 Views Today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>