f3

বনসাই নিয়ে কিছু্ কথা

About Ishtiaque

Ishtiaque
আমি ইশতিয়াক এই WebSite এর Admin Officer আমি মূলত একজন IT Expert, তবে একই সাথে Photography এবং গাছপালা লাগানোর প্রতিও আমার সমান আগ্রহ আর সেই আগ্রহ থেকেই এবং গ্রাম বাংলার কৃষক এবং শহরের মানুষকে এই বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার জন্যেই মূলত আমার এই WebSite টির পরিকল্পনা করা। আশাকরি আপনাদের সবার অনুপ্রেরনা এবং সমর্থন আমার সাথে থাকবে। ধন্যবাদ সবাইকে
Print Print
Pin It

বনসাই অর্থ

বনসাই (Bonsai) বলতে বুঝানো হয়

  • গাছের মত আকার আকৃতি বিশিষ্ট। (প্রকৃতিতে সাধারণ গাছের আকার-আকৃতি যেমন হয় ঠিক সেরকম বড় নয়।)
  • বৈশিষ্ট্যে হুবুহু আসল গাছের মত না হলেও পরিপূর্ণ গাছের যথেষ্ট বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
  • একই রকমের অন্যান্য গাছের তুলনায় আকারে ছোট হয় যাতে সহজেই পরিবহণ এবং কাছে রাখতে সুবিধা হয়।
  • প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক অংশ যাকে বলপ্রয়োগ করে নষ্ট না করে বরং মানুষের সহযোগিতায় সুন্দর করে তোলা হয়েছে।
  • এ যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সকল দর্শককে নিজের মতো করে ভাবতে শেখায় এবং এই অভিগতাকে স্মৃতিতে স্থান করে নিতে সাহায্য করে।
  • অত্যন্ত মুল্যবান এবং মূলত পাত্রে আবদ্ধ জীবনের জন্য এরা বিশেষ যত্ন পায়।
  • কখনো কখনো একে এতটাই মূল্যবান মনে করা হয় যে, বাগানের মাটি সাথে থাকার পরও অথিতিকে দেখানোর জন্য একে ঘরে নিয়ে আসা হয়।
  • এ যেন এক প্রকার বহনযোগ্য ক্ষুদে মনোরম বাগানস্বরূপ,যা কোন পছন্দের ঋতু বা প্রাকৃ্তিক দৃশ্যের প্রতিনিধিত্ব করে এবং ধ্যান এ মগ্ন হতে সাহায্য করে।

বনসাই নিয়ে এগুলো হল শুধুই কয়েকটি ধারণা। বনসাই বলতে আপনি কি বুঝবেন তা পুরোপুরি আপনার উপর নির্ভর করছে।

পরিচর্যারত বনসাই (“পটেনসাই” বা সুপ্ত বনসাই নামেও যা পরিচিত)-এর ভবিষ্যত নির্ধারিত হয় শিল্পীর মনের চিন্তা থেকে। আর যেহেতু এই বনসাই করা হয় জীবিত, বাড়ন্ত জিনিস থেকে তাই তা কখনো শেষ হয় না। পরিচর্যাকারীর সহায়তায় গাছের শারীরিক অবস্থা এবং নতুন রূপের মাধ্যমে জীববিঞ্জানের কিছু নির্ধারিত বিষয়ের মাপকাঠিতে এদের পরিমাপ করা হয়।সবচেয়ে পুরাতন এবং দীর্ঘ সময়ব্যাপী পাত্রে আবদ্ধ বনসাই নানান প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন প্রতিকূলতা সহ্য করতে পারে। এদের প্রতি আমাদের অতিরিক্ত খেয়াল, নিয়মিত খাবার ও পানি, প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা এবং পোকামাকড় থেকে নিরাপদ রাখার ফলে এরা পরিপুর্ণভাবে বিকশিত গাছগুলোর তুলনায় বেশিদিন বাঁচে।

সেরা বনসাই- হোক তা একটা অথবা একাধিক বনসাই’র সমন্বয় তা আমাদের মনকে স্পর্শ করে, আমাদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে,আমাদের অভিঞ্জতাকে সমৃদ্ধ করে, আমাদের কল্পনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

সুবিশাল কাণ্ড, বুনট ছাল, সজীব ও মৃত কাঠের পারস্পরিক নকশা, ভূ-পৃ্ষ্টে বেড়ে ওঠা শিঁকড়, ডালপালার শাখা-প্রশাখায় ভাগ হওয়া, গাছের পত্রসম্ভার, তূলনামুলক ছোট পত্র, অতিমাত্রায় ছোট অগভীর কোন পাত্র, ক্ষুদ্র ফল বা ফুল – এগুলো হল কয়েকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য যা ক্ষুদ্র আকৃ্তির প্রাকৃ্তিক দৃশ্যকে মনের মাঝে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু কোন একটি নির্দিষ্ট বনসাই এর ক্ষেত্রে সবগুলো বৈশিষ্ট্য প্রয়োগ করা আবশ্যিক নয়, সম্ভবও নয়। কোন বনসাই এ কোন বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে হবে তা একজন প্রকৃ্ত শিল্পী জানেন ও উপলব্ধি করতে পারেন। তেমন একটি বনসাইও আমাদের মনকে স্পর্শ করার ক্ষমতা রাখে। শ্বাসরূদ্ধকর এবং মুখে হাসি ফোটানো বনসাইগুলোই হল সত্যিকারের শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম ।

Jir bonsai BDB

Jir bonsai BDB

জঙ্গল থেকেই প্রথম বনসাই সংগ্রহ করা হয়েছিলো এবং অদ্ভুত আকৃতির সেই গাছ যেন তার দীর্ঘ পথচলার নানা নিদর্শন বয়ে চলছিলো। যখন তাদের প্রাপ্যতা কমে যায়, তখন আশপাশের গাছ এবং বাগানের গাছ নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছিলো। অবশেষে জানা যায় যে, “কিভাবে গাছকে নির্দিষ্ট আকৃতি দিতে হয়? ”

বনসাই হচ্ছে জ্ঞান এবং শিল্পের সমন্বয়। একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি  গাছের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে জানলেও, একটি নির্দিষ্ট আকৃতি দেওয়ার কথা নাও জানতে পারেন। সবচেয়ে ভালো, আদর্শ, আসল বনসাই দেখতে প্রাকৃতিক, কৃত্রিমতা বিবর্জিত।এরা শিল্পীর নজর কাড়তে চায় না এবং নিজের বিশেষত্ব দেখিয়ে বেড়ায় না।অনান্য শখ, শিল্প, কুটিরের মত বনসাইয়ের সৌন্দর্য্য একাকী উপভোগ করা যায়, অথবা অন্যের সাথে ভাগ করেও নেওয়া যায়। নিজের আনন্দের জন্য আবার লাভের জন্যও বনসাই বানানো যায়। অল্প অভিঞ্জতা দিয়ে যেমন বনসাই বানানো যায়, তেমনি দীর্ঘ দিনের চেষ্টায়ও বিশেষভাবে বনসাইতে অন্য শিল্পীর সৃষ্টি ফুটিয়ে তোলা যায় অথবা এতে করা যায় বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মিলন।

বনসাই খুব সহজেই একজনের বাগান সম্বন্ধীয় দক্ষতা, শৈল্পিক সৌন্দর্য্য, নকশা ক্ষমতা, সময় এবং আর্থিক বিনিয়োগ ও সঞ্চয় এবং প্রাদর্শনিক বিষয়গুলোকে পরীক্ষায় ফেলতে পারে। বনসাই শুধু একটি “ছোট জাপানী গাছ” নয়। বনসাই এর গুরুত্ব আরো অনেক বেশি। তারা বিদেশ থেকে আমদানী করা প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা নিজের সংগৃহীত একটি দামী নমুনার চারাগাছ হতেও সস্তা হতে পারে।বনসাই এর সবচাইতে লক্ষনীয় বিষয় হল এর বহুর্মূখী মাত্রা এবং বিস্তার।

বনসাই এর পাত্র (Bonsai pot)

বনসাই এর পাত্র images (2)

বনসাই এর পাত্রগুলোও আকর্ষনীয় হতে পারে। প্রথাগতভাবে চীন এবং তারপর জাপানে তৈরি এইসব পাত্রগুলো বেশিরভাগ পোড়া মাটির পাত্র হয়ে থাকে এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পেশাদার এবং অপেশাদার উভয় প্রকার কারিগর এর উপর নকশা করে থাকে। বনসাই এর পাত্রের সাথে বনসাই এর সমন্বয় ঘটানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। পাত্রটিকে আকর্ষনীয় হবার সাথে সাথে বনসাই এর অবলম্বন হিসেবেও উপযোগী হতে হবে। বনসাই এর সৌন্দর্য্যের সাথে পাত্রটি যেন বেমানান না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। মাটির ছোঁয়া এবং অতি উজ্ব্ল নকশার কম ব্যবহার চীনা পাত্র থেকে জাপানী পাত্রগুলোকে আলাদা করে চিনতে সাহায্য করে। অগভীর পাত্রের আধিক্যের মাঝেও কিছু লম্বাটে আকারের পাত্র দেখা যায়। যেসব বনসাই উঁচু পাহাড় হতে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখার জন্য তৈ্রি করা হয় তাদের ক্ষেত্রে এইসব লম্বাটে পাত্র ব্যবহার করা হয় যাতে করে শিকড় এর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে এবং অভিকর্ষের সামঞ্জস্য করা যায়।

যদিও বনসাই বলতে জাপানী মডেল এর উপর ভিত্তি করে তৈরি ছোট আকারের গাছকেই বুঝায়, অন্যান্য দেশে এই বনসাই এর শৈল্পিক ব্যাপ্তি আরো বিশাল যার কয়েকটি নিম্নে বর্ণিতঃ

পেনজিং হল চীনা ক্ষুদ্রাকার প্রকৃ্তির তুলনামূলক পুরানো এবং আদি রূপ। এটি মূলত পর্বতমালা এবং ছোট বড় পাহাড়ের সমন্বয়। এটি ৩ মিটার বা ১০ ফিট উচ্চতার হয়ে থাকে। বড় আকৃতির এসব পেনজিং সাধারনত স্থায়ী কনক্রিট এর উপর বসানো থাকে।

“সাইকেই” হল পেনজিং এর জাপানী নতুন এবং ছোট রূপ। এগুলো পাথর, ছোট গাছপালা ও অপরিপক্ক গাছ এর সমন্বয়ে তৈরি। (এগুলো পরবর্তীতে একক বনসাই এ পরিণত হয়)

“হন নন বো” হল ভিয়েতনামী ক্ষুদ্রাকৃতির প্রকৃ্তি যা ০.৩ হতে ৭.৬ মিটার (১ ফিট হতে ২৫ ফিট) উচ্চতার হয়। এগুলো পাথর, গাছপালা, জলপ্রপাত সমৃদ্ধ দ্বীপ, পাহাড় এর সমন্বয়ে তৈরি।

“মাই-দ্যাট” হল থাই বৈশিষ্ট্য পূর্ণ এবং গভীর ভাব বহনকারী। এগুলোর সাথে নৃ্ত্যশিল্পীদের ভঙ্গীর মিল পাওয়া যায়।

এছাড়াও উত্তর আমেরিকা, দক্ষিন আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়াতে বনসাই এর কিছু নতুন ও আলাদা আকৃতি দেখা যায়।

একপ্রকার বিশেষ ছোট গাছপালা আছে যা একক ভাবে প্রধান বনসাই গাছের কাছাকাছি স্থাপিত হয় যাতে করে বিশেষ কোন মাত্রা অথবা ঋতুর বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা যায়।

সবচাইতে প্রথাগত প্রদর্শন প্রক্রিয়া হল “টোকোনোমা”, যার পিছন প্রাচীর সাধারণত একটি ঝুলন্ত ঝুলিতে একটি উঁচু তাক করা থাকে। লেখ্যপট, বামনগাছ, উদ্ভিদ ও পাথরের সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট থিম উপস্থাপন করা হয়।

“ভিউয়িং স্টোন” অথবা, “সুইসেকি” হল অপেক্ষাকৃ্ত ছোট প্রাকৃ্তিক পাথর যা দেখতে ছোট আকারের পাহাড়, দ্বীপ, কুঁড়েঘর অথবা জন্তুর মত। এদের সৌন্দর্য্য প্রদর্শনের জন্য এতে নানা রকম কারুকার্য করা হয়ে থাকে।

এসব হল বনসাই বাগানকর্মের বর্তমান চিত্র। পৃথিবীব্যাপি বিস্তার এর সাথে সাথে এতে আরো যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা ও নতুন উপকরণ।নতুন আঞ্চলিক গাছপালা ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের প্রয়োগ এতে নিয়ে আসছে নতুন নতুন বৈচিত্র। এভাবেই বনসাই প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে এবং সবাই এই শিল্পের উন্নতিতে অবদান রাখছে।

বনসাই_এর _পাত্র

(শ)

..

3183 Total Views 1 Views Today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>